Pages

Tuesday, April 6, 2010

কাজীর গাঁ-তে কয়েক ঘন্টা, কাজী জহিরের সাথে একদিন



কাজীর গাঁ-তে কয়েক ঘন্টা, কাজী জহিরের সাথে একদিন
এবং প্রথম আলোর ইকবালের বিয়ে প্রসঙ্গ


বুধবার, ২৪ মার্চ ২০১০। শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটের পেছনে চায়ের দোকানে রেডিও তেহরানের সাংবাদিক এমএম বাদশাহ’র সাথে চা খাচ্ছিলাম। তখন ঘড়িতে বাজে সন্ধ্যা পৌনে আট। হঠাৎ আমার সেল ফোনে ক্রিং ক্রিং শব্দ। প্যান্টের পকেট থেকে সেল ফোন টা বের করে স্ক্রীনে দেখি এক অপরিচিত গ্রামীণ নাম্বার। রিসিভ করতেই কানে ভেসে আসল, আপনি সাইফ বলছেন? আমি ইয়েস বলতেই উনি বলল, আমি কাজী জহিরুল ইসলাম বলছি। ও আল্লাহ! আমার মনে তখন একশত ষাট ডিগ্রি হার্টবিট বেড়ে গেছে। উনি আমাকে ফোন !!!। অবশ্য লন্ডন থেকে মুক্তি আপু ফেসবুকে আমাকে জানিয়েছিল, জহির দেশে যাচ্ছে এক সপ্তাহের ছুটিতে। যাই হোক দেড় মিনিটে কথোপকথনে উনি বলল, আমি গত সোমবার এসেছি, আগামী সোমবার চলে যাবো। শুক্রবার সকালে আমার বাসায় আসবেন। ফোন করে ঠিকানা জেনে নিবেন।

বৃহস্পতিবার, ২৫ মার্চ ২০১০। সকালে অফিসে এসে ফোন দিলাম জহির ভাইকে। তাঁর বাসার ঠিকানা দিলেন, বললেন, আগামীকাল [২৬ মার্চ ] শুক্রবার, সাইফ আপনি যদি ফ্রী থাকেন, চলেন ঘুরে আসি গাজীপুর। যাকে কোনদিন দেখিনি, শুধু অনলাইনে কথা হতো, চ্যাট হতো, অনলাইনেই তাঁর কাছ থেকে পত্রিকার জন্য লেখা নিয়েছি, তাঁর এমন প্রস্তাবে রাজী না হয়ে পারলাম না। অবশ্য আমিও গত কোরবানী ঈদের পর কোথাও যেতে পারিনি অফিস-পড়াশুনা-লেখালেখি প্রচণ্ড যান্ত্রিক জীবন আমার। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, কাজি জহিরুল ইসলাম জাতিসংঘের আর্ন্তজাতিক কর্মকর্তা হলেও মূলত একজন কবি, কথাশিল্পী। বিশ্ব ভ্রমণের উপর লিখে চলেছেন নানা বর্ণিল সব গদ্যরচনা। ইতিমধ্যেই তাঁর ২৫টিরও বেশি গ্রন্থ বেরিয়েছে। দেশ বিদেশের বিভিন্ন জার্নালে লিখছেন অনবরত।


শুক্রবার, ২৬ মার্চ ২০১০। সকালে ঘুম থেকে ওঠে ফ্রেশ হয়ে ছুটলাম গুলশান নিকেতনের উদ্দেশ্যে। আমি সময়ের ব্যাপারে খুবই সিরিয়াস। উনি আমাকে সময় দিয়েছিল সকাল ১০টা। মীরপুর থেকে আমি ৯.৫২ মিনিটে গুলশানে উনার বাড়ীর গেটে গিয়ে ফোন করি। ফ্যাট বাড়ী। সুন্দর সাজানো সিড়ি। লিফটে চলে গেলাম চারতলায়। কলিং বেল টিপটেই জহির ভাই হাসিমুখে দরজা খুলে বলে, ওহ! সাইফ, আসেন। ড্রইং রুমে ঢুকেই দেখি দুইজন সাংবাদিক। বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে এসেছে সাাৎকার নিতে। দীর্ঘ সাাৎকার নিতে সাংবাদিকের উপর আমারই প্রচণ্ড মেজাজ বিগড়ে যাচ্ছিল।

এরই মধ্যে চলে আসল অবনী অনার্য। কবি ও নির্মাতা অবনী সমপ্রতি একটি মুভি তৈরি করছেন। অবনীর সাথে কথা বলতে বলতে সাাৎকার পর্ব শেষ করে সাংবাদিকরা চলে গেল। এর পর শুরু হল আমাদের আয়োজন। দেরী না করে চকলেট খেতে খেতে জহির ভাই, অবনী এবং আমি বের হলাম গাজীপুরের উদ্দেশ্যে।

আমরা যাচ্ছি। ছোট একটি প্রাইভেট কারে জহির ভাই সামনে সিটে। অবনী আর আমি পেছনের সিটে বসে গল্প করছি। সাঁ সাঁ করে গাড়ি এয়ারপোর্ট আতিক্রম করল। স্বাধীনতা দিবস থাকায় রাস্তায় খুব একটা যানজট নেই। গল্প হচ্ছে। বিশ্ব পরিস্থিতি, জহির ভাইয়ের দীর্ঘ বিদেশে থাকার নানা অভিজ্ঞতা, জাতিসংঘে কর্মররত জহির ভাইয়ের বিভিন্ন স্মৃতি এবং আমাদের ব্যাক্তিগত প্রসঙ্গ। আবহাওয়া খুবই চমৎকার। গরম খুব একটা নেই। আমরা যাচ্ছি। বেলা ১২ টায় পৌঁছে গেলাম গাজীপর শ্রীপুর টেপির বাড়ী। পাশেই কাজীর গাঁ।

আমরা ঢুকে গেলাম কাজীর গাঁ-তে। সাড়ে চার বিঘা জমির চারপাশে সুসজ্জিত ইটের তৈরি বাউন্ডারি দিয়ে ঘেরা। ভেতরে আম, জাম, কাঠাল, লিচু, নারিকেল, জলপাই, কলা, পেঁপে, জামরুলসহ রকমারি ফল ও ফুলের গাছ-গাছালিতে ভরা। প্রকৃতির নির্মল সব আয়োজন এখানে আছে। আছে কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পীদের জন্য একটা ঘর।

ঘরটার উপরে ছনের চাল। আমাদের আঞ্চলিক ভাষা চাল। চাল এর ভালো বাংলা হল ছাদ । মেঝেটা পাকা করা। চারপাশ খোলা । শুনলাম এই ঘরে নাকি মাঝে মাঝে ঢাকা থেকে নাটকের শুটিং এর জন্য বিভিন্ন নাট্যদল ছুটে আসে। তো আমরা কিছুটা সময় কাজীর গাঁ-তে এসব প্রকৃতির সাথে থাকতে থাকতে ২টা বেজে গেল। ঔ ঘরটাতে খাবার এর আয়োজন হল। ভাত, পাট শাক, ইলিশ মাছ ভাজি, মুগীর মাংস, গরু মাংসের ভোনা, দুধ, ইত্যাতি বিশাল আয়োজন। আমরা তিনজনসহ ওখানকার কয়েকজন খেলাম খুবই মজা করে। কাজীর গাঁ-বাড়ীটার কেয়ারটেকার মামার স্ত্রী অসাধারণ রান্না করেছিল।

খাওয়া দাওয়া সেরে আরো কিছুটা সময় ঘুরে দেখলাম। হঠাৎ চোখে পড়ল একটা পেঁপে গাছে পেকে আছে পেঁপে। মামী পেঁপেটাকে গাছ থেকে পেরে জহির ভাইয়ার জন্য ব্যাগে দিয়ে দিল। সময় তখন বিকেল পৌনে চারটা। মন চাইছিলনা ওখান থেকে ঢাকায় আসতে। কিন্তুু যেতে যাহি নাহি চায়-তবু যেতে হয়-এই অমোঘ সত্যকে ভেবে আমরা বিদায় নিলাম এই কাজীর গাঁ থেকে।


ফিরতে ফিরতে ঢাকায় তখন সন্ধ্যা। জহির ভাই বলল, চলেন, আমি একা, ইকবালের বিয়েটা খেয়ে আসি। ইকবাল হোসাইন চৌধুরী বর্তমানে প্রথম আলোতে কর্মরত। উইকলি সাপ্লিম্যানট ছুটির দিন দেখেন। প্রথম আলোরই আরেকটা উইকলি সাপ্লিম্যানট নকশার সামার সাথে বিয়ে। আমরা চলে গেলাম ধানমণ্ডির ফর সিজন রেস্টুরেন্টে। বিয়ের অনুষ্ঠান সেরে রাত ১০টায় জহির ভাইকে বিদায় দিয়ে ফিরলাম বাসায়। অনেকদিন পর পরিতৃপ্তির একটা দিন কাটালাম।

Saturday, March 27, 2010

সম্ভাবনার বাংলাদেশ [৭ম কিস্তি ]


সম্ভাবনার বাংলাদেশ [৭ম কিস্তি ]

[সুজলা সুফলা শষ্য শ্যামল আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। এ দেশে রয়েছে অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ। এ সম্পদ সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী দেশ। এসব সম্ভাবনার কথা নিয়ে এই বিশেষ রচনাটি আরটিএনএন এর পাঠকদের জন্য ধারাবাহিকভাবে লিখছেন সাইফ বরকতুল্লাহ । আজ প্রকাশিত হল এর ৭ম কিস্তি।]


১. দেশে ৪০ লাখ মিনি ডেইরি ফার্ম গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে

বাংলাদেশের ডেইরি খাতের ব্যাপক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে প্রায় ৪০ লাখ মিনি ডেইরি ফার্ম গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এ সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে পারলে এর মাধ্যমে দুধ, সার ও বায়োগ্যাস উৎপাদন এবং এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রায় সোয়া কোটি লোকের কর্মসংস্থান হবে।

গভর্নর বলেন, ¯^‡`wk উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের জন্যই এ বায়োগ্যাস প্লান্ট চালু করা হচ্ছে। দেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটি হলেও মানুষ আগের চেয়ে অনেক ভালো রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মক্ষম সব মানুষ কাজ করছে। দেশে অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য নতুন যুদ্ধ চলছে।

গবেষণার ফলাফল উদ্ধৃত করে তিনি জানান, বাংলাদেশে ৪০ লাখ ক্ষুদ্র ডেইরি ফার্মের সম্ভাবনা রয়েছে। যা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন কিউবিক মিটার বায়োগ্যাস, ২৪০ মিলিয়ন টন প্রাকৃতিক সার, ৫ মিলিয়ন টন ভার্মি কম্পোস্ট, ১৭ বিলিয়ন লিটার দুধ, প্রতি ১৪ মাসে ১৬ মিলিয়ন বাছুর, ১ মিলিয়ন টন মাংস এবং ২৬ মিলিয়ন বর্গমিটার চামড়া এবং ৩ লাখ টন হাড় পাওয়া যাবে।

গভর্নর বলেন, এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হলে প্রচুর পরিমাণে দুধ, সার ও বায়োগ্যাস উৎপাদন এবং এ খাতের রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।


২. সম্ভাবনাময় সমুদ্র সৈকত সোনারচর
সম্ভাবনাময় সমুদ্র সৈকত পটুয়াখালীর গলাচিপার সোনারচর হতে পারে পর্যটকদের জন্য তীর্থস্থান। দীর্ঘ এ সমুদ্র সৈকতের যে কোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় দেখা যায়। সেই সঙ্গে বাড়তি আনন্দ দেয় জেলেদের নৌকায় জাল ফেলে মাছ ধরার দৃশ্য।
বনাঞ্চলের দিকে তাকালে সহজেই দেখা যাবে বুনোমোষ। ভাগ্য সহায় হলে দেখা হয়ে যেতে পারে হরিণপালের সঙ্গে। এখানে আরো দেখা যাবে বন্য শূকর, বানর, মেছো বাঘসহ নানা ধরনের বন্যপ্রাণী। দেখা যাবে সমুদ্রগামী হাজারো জেলের জীবন সংগ্রামের দৃশ্য। সোনারচরে সোনা নেই তবে আছে সোনা রঙের বালি। বিশেষ করে শেষ বিকালের সূর্যের আলো যখন সোনারচরের বেলাভূমিতে পড়ে, তখন দূর থেকে মনে হয় পুরো দ্বীপটি যেন একটি সোনার থালা। কাঁচা সোনা লেপ্টে দেয়া হয়েছে এ দ্বীপটিতে।

এলাকাবাসীর ধারণা উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যের কারণেই এর নামকরণ করা হয়েছে সোনারচর। মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের চাদরে ঢাকা এ দ্বীপটিতে নদী আর সাগরের জল আছড়ে পড়ে। অপরূপ সোনারচর ¯^Y©vjx ¯^‡cœi মতোই বর্ণিল শোভায় ঘেরা। প্রায় ১০ হাজার একর এলাকাজুড়ে ¯^gwngvq প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিলিয়ে যাচ্ছে এ দ্বীপটি। এখানে রয়েছে পাখ-পাখালির কলকাকলিতে মুখরিত বিশাল বনানী। যা শীতের সময় পরিণত হয় বিভিন্ন প্রকার অতিথি পাখির অভয়ারণ্যে।

সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটকরা এখানে এলে সোনারচরের মনমোহনীয়রূপ তাদের মুগ্ধ করবেই। ১৯৫০-এর দশকে গলাচিপা উপজেলার সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে জেগে ওঠে সোনারচর। পর্যায়ক্রমে চরটি পরিপূর্ণতা লাভ করলে ১৯৭৪ সালে স্থানীয় বন বিভাগ বিভিন্ন ম্যানগ্রোভ জাতের গাছের বাগান গড়ে তোলে এবং এরপরই বন বিভাগ তৈরি করে একটি ক্যাম্প ও গলাচিপা উপজেলা প্রশাসন পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধার জন্য গড়ে তোলে একটি বাংলো। গলাচিপা উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে পানপট্টি লঞ্চঘাট। সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে আগুনমুখা নদী পেরিয়ে ডিগ্রি নদীর বুকচিরে কিছুদূর এগোলেই বুড়াগৌরাঙ্গ নদী। সামনে গিয়ে বায়ে ঘুরতেই দাঁড় ছেঁড়া নদীর দু’পাশে দাঁড়ানো সারি সারি ঘন ম্যানগ্রোভ গাছের বাগান। নদীর বুকজুড়ে গাঙ শালিকের অবাধ বিচরণ। সামুদ্রিক হাওয়ার মৃদুছোঁয়া সব মিলিয়ে অন্যরকম এক রোমাঞ্চকর ভালো লাগার অনুভূতি। এভাবে ঘণ্টা তিনেক এগোলেই চোখে পড়বে প্রকৃতির অনন্য সৌন্দর্যমণ্ডিত সববয়সী মানুষের হৃদয় হরণকারী মায়াবী দ্বীপচর তাপসী আর এ থেকে সর্বোচ্চ আধা ঘণ্টা সামনে এগোলেই প্রতীক্ষিত সোনারচরের দেখা মিলবে।
এছাড়া প্রকৃতির হাতেগড়া চরমৌডুবি, জাহাজমারা, চরতুফানিয়া, চরফরিদ ও শিপচরসহ বেশকিছু দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ করার মতো। দ্বীপগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণ করে এবং পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা সেই সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করতে পারলে দেশের পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে এলাকাবাসী মনে করছেন।

৩. আখের ছোবড়া থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন

দেশের চিনিকলগুলোতে চিনির পাশাপাশি আখের ছোবড়া থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এ লক্ষে চিনিকলগুলোতে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। গত রোববার শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া শিল্প ভবনে চিনি শিল্প করপোরেশনসহ সংশি¬ষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। দিলীপ বড়ুয়া জানান, চিনিকলগুলো দ্বৈত (চিনি ও বিদ্যুৎ) উৎপাদন ক্ষমতার সরঞ্জামাদি স্থাপনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই ও সমীক্ষা করতে বলা হয়েছে, যাতে আখের অবশিষ্টাংশ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। মন্ত্রী বলেন, চিনিকলগুলোকে লাভজনক করতে পরিত্যক্ত তরল পদার্থ (চিটা গুড়) ব্যবহার করে মদ উৎপাদনের চিন্তাভাবনাও করছে সরকার। ডিস্টিলারি প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য কয়েকটি চিনিকলকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্তত দুটি কারখানাকে এ জন্য চূড়ান্ত করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশে বর্তমানে চিনির চাহিদা প্রায় ১২ লাখ টন। কিন্তু দেশীয়ভাবে এ বছর চিনির উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৬০ হাজার টন। বাকি পুরোটাই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। চিনি শিল্প করপোরেশনকে এ জন্য আন্তর্জাতিক বাজার যাচাই করে মূল্য নির্ধারণ এবং দ্রুত চিনি আমদানির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শিগগিরই সব প্রক্রিয়া শেষে চিনি আমদানি করা হবে।

৪. বৈদেশিক আয়ের উৎস হতে পারে সুন্দরবনের কাঁকড়া

সুন্দরবনের প্রাকৃতিক উৎস থেকে সংগৃহীত কাঁকড়া বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সুন্দরবনের কাঁকড়া আহরণকারীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, আধুনিক পদ্বতি ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারলে প্রতি বছর এ খাত থেকে কয়েক শ’ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। প্রতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁকড়ার চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি দামও বাড়ছে।

আষাঢ় মাস থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত কাঁকড়া আহরণ মওসুম সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার সহস্রাধিক জেলে বন বিভগ থেকে নির্দিষ্ট ivR‡¯^i বিনিময়ে পারমিট সংগ্রহ করে সুন্দরবনে প্রবেশ করে। গহীন সুন্দরবনসহ সাগর মোহনা থেকে জেলেরা কাঁকড়া আহরণ করে। এছাড়া উপকূলীয় জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার দেড় লক্ষাধিক হেক্টর চিংড়ি ঘেরে প্রাকৃতিকভাবেই কাঁকড়া উৎপন্ন হয়।

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ১১ প্রজাতির কাঁকড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে মাইলা, হাব্বা, সিলা ও সেটরা কাঁকড়ার প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন থাকায় চীন, মিয়ানমার, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, হংকংসহ বিভিন্ন দেশে কাঁকড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো- ৬ সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছরে বিদেশে প্রথম কাঁকড়া রপ্তানি শুরু হয়। এরপর প্রায় তিন বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৮২-৮৩ অর্থবছরে আবার বিদেশে কাঁকড়া রপ্তানি শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে বিশ্ববাজারে এর চাহিদা বাড়তে থাকে। পাশাপাশি বাড়তে থাকে এ খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রার আয়। ১৯৯০-৯১ সালে কাঁকড়া রপ্তানি করে আয় হয় ২৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।

১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় কয়েকগুন বেড়ে যায়। ওই অর্থবছরে ২৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার কাঁকড়া রপ্তানি করা হয়। ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে রপ্তানি হয় ১২৫ কোটি ২২ লাখ ৩৯ হাজার টাকার, ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে কাঁকড়া রপ্তানি করা হয় ১৪১ কোটি ৬৬ লাখ ৬ হাজার টাকার। ২০০১-০২ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয় ৫৩০ কোটি টাকা। ২০০২-০৩ অর্থবছরে কাঁকড়া রপ্তানি হয়েছে ২ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলারের ৬৩০ মেট্রিক টন।

২০০৩-০৪ অর্থবছরে এ খাতে আয় গিয়ে দাঁড়ায় ১৪৬ মিলিয়ন টাকায়। কাঁকড়া চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুন্দরবন সংলগ্ন সাগর ও নদীগুলোতে যে পরিমাণ কাঁকড়া ধরা পড়ে তা প্রাকৃতিকভাবে রেণু থেকে বড় হয়। এ অঞ্চলে ১২ মাস কাঁকড়ার চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকায় এখন অনেক কাঁকড়া চাষে আগ্রহী হচ্ছে। তাছাড়া চিংড়ি চাষের জন্য প্রচুর জমি ও অর্থের প্রয়োজন হলেও কাঁকড়া চাষের জন্য জমি ও অর্থ দুটোই কম লাগে।

সুন্দরবনে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত প্রচুর পরিমাণে যে কাঁকড়া ধরা পড়ে তা সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি, কাঁকড়া চাষিদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সরকারিভাবে ব্যাংকঋণের সুবিধা দেয়া হলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে কাঁকড়া রপ্তানি দেশের সমৃদ্ধির দুয়ার উন্মোচন করতে পারবে। [ চলবে...]




তথ্যসূত্র : ১. বিবিসি নিউজ ২. আরটিএনএন ৩.দৈনিক ভোরের কাগজ ৪. দৈনিক যায়যায়দিন

Thursday, March 18, 2010

আত্বজীবনী পর্ব-০১

আত্বজীবনী পর্ব-০১

ফেলে আসা স্মৃতি


শুভ্র সকাল। প্রচণ্ড শীত। কুয়াশায় চারদিক ঢাকা। দুই পায়ের সরু রাস্তা। রাস্তার দুই পাশে সবুজ ধানতে। এমন সময় প্রতিদিন ঐ রাস্তায় প্রাইভেট পড়তে যেতাম আর ভাবতাম এভাবেই যদি কেটে যেতো সারাটা জীবন। রাতে স্বপ্ন দেখতাম কবে বড় হবো?? আস্তে আস্তে বেড়ে ওঠলাম। প্রাইমারীর গণ্ডি পেরিয়ে হাইস্কুল। সে সময় আরো বেশী স্বপ্ন ডানা মেলতো মনের ভেতর। স্কুলের ফার্স্টবয় ছিলাম। কোনদিনও কাশ মিস দিতাম না। রহমান স্যার
ইংরেজী গ্রামার পড়াতেন। লম্বা , ফর্সা ও স্মার্ট। পান খেতেন আর মিষ্টি মিষ্টি কথা বলতেন। কাশে পড়া না পারলেই রীতিমত কান ধরে দাঁড় করিয়ে বলতেন বড় বড় জ্ঞানী ব্যাক্তিদের কথা। বিভিন্ন মনীষির ইতিহাস। শুনাতেন ভালো করে লেখাপড়া করলে জীবনটা সুন্দর হয়। সফল হয়। আর স্বপ্ন দেখাতেন ম্যাজিস্ট্র্যাট, ইঞ্জিনিয়ার হবার।

এরই মধ্যেই সায়েন্স থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাশ করে ইন্টারে ভর্তি হলাম। নানা ঘাত-প্রতিঘাতে এইচএসসি আর পাশ করা হলোনা। নিলাম একটা কিণ্ডারগার্টেন স্কুলে চাকরি। হাসি-খুশি, ছোট ছোট কোমলমতি শিশুদের সাথে সময় কাটানো, ভালোই চলছিল জীবন।

একদিন এই স্কুলের প্রিন্সিপাল স্যার আমাকে ডেকে নিয়ে পরামর্শ দিল। বলল, তুমি আবার নতুন করে পড়ালেখা শুরু কর। জীবনটাকে এভাবে রেখো না। স্যারের কথা অনুযায়ী কয়েকমাস পরেই ঢাকায় একটা বেসরকারী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট-এ চার বছর মেয়াদী কম্পিউটার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ভর্তি হলাম।

প্রথম সেমিস্টার ভালো রেজাল্ট করলাম। দ্বিতীয় সেমিস্টারেই আবার ঘটে গেল মহাবিপদ। মিডটার্ম পরীার মাত্র দশ-বারো দিন পূর্বে ঢাকার মোহাম্মদপুরস্থ রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের সামনে বাস দূর্ঘটনায় আমার ডানহাত ভেঙ্গে গেল। তারপর???
তারপরতো ঘটে গেল আরও রহস্যময় মজার ঘটনা।
পলিটেকনিকের অধ্য স্যার ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল ওয়াদুদ আমাকে প্রচণ্ড আদর করতো। প্রথম সেমিস্টারের রেজাল্ট ভালো হবার কারণে অন্যান্য স্যার ম্যাডাম সবাই আমাকে মিডটার্ম পরীা দেবার অনুমতি দিল।
কিন্তু একটা শর্ত জুড়ে। ইন্সটিটিউটের অফিস কে বসে পরীা দিলাম। আমি মুখে মুখে বলি আর আমার ফুফাতো ভাই মাহফুজ আমার কথা শুনে শুনে খাতায় উত্তর লিখে। এভাবেই দ্বিতীয় সেমিস্টার পার করলাম।

সাইফ বরকতুল্লাহ : ডায়েরির পাতা থেকে সংকলিত

Monday, March 1, 2010

জ্যোৎস্না রাতের গল্প


অমর একুশে বইমেলায়
সাংবাদিক সাইফ বরকতুল্লাহর
কাব্যগ্রন্থ জ্যোৎস্না রাতের গল্প


অমর একুশে বইমেলা ২০১০-এ প্রকাশিত হয়েছে সাংবাদিক সাইফ বরকতুল্লাহর প্রথম কাব্য গ্রন্থ জ্যোৎস্না রাতের গল্প। ৩৯ টি কবিতার সংকলনে বইটি রচিত। সাইফ দীর্ঘদিন লেখালেখির সাথে জড়িত থাকলেও এটাই তার প্রথম বই। শুধু চর্চার মাধ্যমে যারা কবি হন, সাইফ বরকতুল্ল¬াহ যে তেমন কবি নন, সে কথা তার ‘জ্যোৎস্না রাতের গল্প’ বইটির কবিতাই প্রমাণ করে। কবিতাগুলো তার ¯^Zù~Z© ভাব থেকে জন্ম নেয়া। কবিতার কাছে পাঠকের যে দাবি, তা হলো, ভালোলাগা। সাইফ বরকতুল¬াহ’র কবিতায় তার সবটুকু আছে। অতএব সাইফের কবিতা সুখপাঠ্যও। তারও চেয়ে বড় কথা, ‘ জ্যোৎস্না রাতের গল্প’ বইটির কবিতা সময়কে কবচের মতো ধারণ করে আছে। এই কবিতাগুলোর ভেতর দিয়ে বিকীর্ণ হচ্ছে প্রেম বিরহের রেশ, গলাবাজির রাজনীতির প্রতি কটাক্ষ এবং শূন্যতায় নিমগ্ন, বা নিঃসঙ্গতায় বিরাজমান একটি সত্ত্বার বহুরকম ব্যঞ্জনা। সাইফ বরকতুল্লাহ’র জন্ম ১৯৮৩ সালের ৩১ আক্টোবর জামালপুর জেলার তেঘরিয়া গ্রামে। মা বুলবুলি বেগম। বাবা আব্দুল মোমিন। সাইফ বরকতুল্লাহ কম্পিউটার প্রকৌশলী হয়েও তার নেশা যেমন কবিতা লেখা, তেমনি পেশা কলমবাজি। বর্তমানে একটি মাসিক পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক তিনি। বইটি প্রকাশ করেছেন চয়ন প্রকাশন। মূল্য ৭০ টাকা।

Thursday, February 11, 2010

ধ্যাত, আসলেই পাগল আমি


ধ্যাত, আসলেই পাগল আমি




ধ্যাত, আসলেই পাগল আমি
সবাই বলে , তুই একটা পাগল
আমি জানি আমার অবস্থা।

চারদিক শুধু হাহাকার
চাই শুধু চাই এটা ওটা
চাই শুধু টাকা, গাড়ী, বাড়ি
চাই শুধু অট্রালিকার সুখ
কিন্তু কেন এমন হচ্ছে??
চারপাশ, দশদিক।

ধ্যাত, আমরা যারা পাগল
আমরা যারা ঐ সবের ধারে কাছেও
যেতে চাইনা
আমরা যারা নগন্য হয়ে থাকি
খাই দাই ঘুরি ফিরি
এটাই আমাদের পাগলের উপাদান।

আবহমান এই পাগলের পথচলা
নিষ্ঠুর এই ভাঙ্গা সময়ের সামনে দাঁড়িয়ে
শুধু একটা কথাই বলি
ধ্যাত, আসলেই পাগল আমি।

Sunday, February 7, 2010

বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ দুবাই


বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ দুবাই

দুবাই সমপ্রতি উদ্বোধন করেছে বিশ্বেও সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ দুবাই। ২০০ তলা বিশিষ্ট এ টাওয়ারের উচ্চতা ৮০০মিটার। সব রেকর্ড ছাড়িয়ে আত্বপ্রকাশ করার মধ্য দিয়ে দুবাই শহরের মর্যাদা বাড়িয়ে দিল বুর্জ দুবাইয়ের নির্মাতা ইমার প্রোপার্টিস পিজেএসসি ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যায়ে ২০০৪ সাল থেকে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করে। তবে ভবনটির সঠিক উচ্চতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। বুর্জ দুবাইয়ের ২০০ তলার মধ্যে ১৬৫টি বাসযোগ্য বলে জানিয়েছেন এর চেয়ারম্যান। ২০০৪ সালে নির্মাণকাজ শুরুও ১,৩২৫ দিন পর ভবনটির উদ্বোধন করা হল। টাওয়ারটির কাঠামোর ৩৩০,০০০ কিউবিক মিটার কংক্রীট, ৩৯,০০০ মিটার স্টিল, ১০৩,০০০ স্কয়ার মিটার কাঁচ এবং ১৫,৫০০০ স্কয়ার মিটার স্টেইনলেস স্টীলের তৈরি। ওজন ৫০০,০০০টন। মোট আয়তন ৫ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন স্কয়ার ফিট। এর মধ্যে আবাসিক এলাকা ১ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন স্কয়ার ফিট। আর ৩০০,০০০ স্কয়ার ফিট অফিস এলাকা। এছাড়াও এত আছে সুইমিং পুল, পর্যবেক্ষণ ডেক, রেস্টুরেন্ট এবং বিলাসবহুল হোটেলও।

Saturday, February 6, 2010

কোপেনহেগেন সম্মেলন:


কোপেনহেগেন সম্মেলন:
জলবায়ুর বিষম রাজনীতি
এবং বাংলাদেশ

সাইফ বরকতুল্লাহ


১৯ ডিসেম্বর ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে শেষ হয়েছে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন। 15th Conference of the Parties অর্থাত্‍ কপ নামে পরিচিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন শুরু হয় গত ৭ ডিসেম্বর। ১৯২ টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা এই সম্মেলনে যোগ দেন। অনেক আগ্রহ নিয়ে সারা পৃথিবীর মানুষ এর দিকে লক্ষ্য রাখছিল। কারণ এই সম্মেলনের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছিল ভূ-পৃষ্ঠের মানুষের আগামী প্রজন্মের জীবন। যখন সমুদ্রপৃষ্ঠের জলমাত্রার কাছাকাছি অনেক ছোট ছোট দেশ হয়তো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, সবুজ শ্যামল শষ্যক্ষেত ভরা জমি বাড়তি সাগরের লোনাজলে তলিয়ে যাবে।

সম্মেলন শেষে একটি চুক্তি হয়েছে, কিন্তু সে চুক্তি কি কোন আশার বাণী শোনাতে পেরেছে?? আসলে এই সম্মেলনে যা হয়েছে তা হলো বাগাড়ম্বরতা, যা চুক্তির ভাষাতেই স্পষ্ট। যাতে আছে এমন সব প্রতিশ্রুতি, যা পালিত হওয়ার কোনোই নিশ্চয়তা নেই। বলা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিল রেখে এবং বিশ্ববাসীর আশা-আকাঙ্খাকে অন্ধকারে রেখে নানা অচলাবস্থা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ঘটে যাওয়া ১২ দিনের এ সম্মেলন সংকট থেকে উত্তরণের কোনো পূর্ণাঙ্গ ও সর্বসম্মত রুপরেখা দিতে পারেনি। বরং বলা যায় ১৯২ টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের অংশগ্রহণে সমৃদ্ধ এ সম্মেলন শেষ হলো অনেক নতুন অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়ে।


বিংশ শতাব্দীর গোড়া থেকে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর নাগরিকরা নিজেদের ভোগের জন্য অতিমাত্রায় জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে ( কার্বন নিঃসরণ ) ভূ-পৃষ্ঠের বায়ুর তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে থাকে। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তন হয়ে মেরু অঞ্চল ও পর্বতচূড়াগুলোর বরফ গলে ক্রমে সংকুচিত হতে শুরু করে এবং গলিত পানি সমুদ্রে জমা হয়ে গড় জলের উচ্চতা বেড়ে যেতে শুরু করে। একবিংশ শতাব্দীতেও এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় সমুদ্রতটবর্তী দেশগুলো এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার কাছাকাছি দ্বীপগুলো অচিরেই বর্ধিত সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে ডুবে যাওয়ার হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২১০০সাল নাগাদ বাংলাদেশের ২০ শতাংশ জমি সাগরে তলিয়ে যাবে। এছাড়াও ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের উপকূলবর্তী খুলনা, বরিশাল, নোয়াখালী এলাকার ১.৫ কোটি মানুষ জলবায়ুজনিত কারণে উদ্বাস্তু হয়ে যাবে।

কোপেনহেগেন সম্মেলন কোনো বিচ্ছিন্ন মহাসম্মেলন নয়। ২০০৭ সালে বালিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের পর থেকেই পৃথিবীর ভবিষ্যত্‍ নির্ধারণে কোপেনহেগেনে রাষ্ট্রগুলো কী আইনি ও বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত নেবে তা নির্ধারণ ঘটেছে বেশকিছু সম্মেলন। জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিশ্বজনমত বারবারই ক্ষতিরোধ বা প্রশমনের দাবি জানিয়েছে। দাবি উঠেছে ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে উন্নত বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাক-শিল্পায়নের সময় থেকে ২১০০ সাল নাগাদ ১.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে সীমাবদ্ধ রাখা যায়। অন্যথায় উষ্ণতা বাড়িয়ে তুলবে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা আর ডুবিয়ে দেবে ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোসহ বাংলাদেশের মতো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অপেক্ষাকৃত নিম্ন উচ্চতায় অবস্থিত দেশগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশ।

সরকার বদলের ফলস্বরূপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কখনোই গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণের মানমাত্রা নির্ধারণকারী আইনি দলিল কিয়োটো প্রটোকলে স্বাক্ষর না করলেও কোপেনহেগেন দলিলের মূল উদ্যোক্তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই । দক্ষিণ আফ্রিকাসহ দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ ভারত, চীন ও ব্রাজিলকে সঙ্গে নিয়ে এ দলিল তারা প্রস্তাব করে সম্মেলন শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে। ১৮৯ টি দেশ কর্তৃক সমর্থিত এ রাজনৈতিক সমঝোতা দলিল সব রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় এটি জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহিত কোনো দলিল নয়। এটির প্রস্তাবনা জাতিসংঘের রীতিনীতির বিরুদ্ধে বলে এটিকে জাতিসংঘের বিরুদ্ধে কু্য হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন বিরোধিতাকারী এক রাষ্ট্র । বাংলাদেশে বিচ্ছিন্নভাবে এ প্রস্তাবিত দলিলের পক্ষে মতামত প্রকাশের কিছু চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। খুব সতর্কভাবে দলিলটি পড়লে ও বিদ্যামান বিশ্ব পরিস্থিতির বাস্তবতার বিশ্লেষণ করলে এ জাতীয় ইতিবাচক প্রচেষ্টার পক্ষে যুক্তি খুঁজে পাওয়া দুস্কর।

জলবায়ু পরিবর্তন তথা বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশগুলো বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরিবর্তে পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ঋণ দিতে চায়। এ জন্য কোপেনহেগেন সম্মেলনে যে চুক্তি হলো তাতে ২০১০-১২ সাল নাগাদ ৩০বিলিয়ন ডলার এবং ২০২০ সাল নাগাদ ১০০বিলিয়ন ডলার অর্থের জোগান দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সইয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারী দেশগুলো আগামী দীর্ঘমেয়াদী সময়ের মধ্যে বিশ্বের উষ্ণতা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি যাতে না বাড়ে সে ব্যাপারে একমত হয়ে ২০১৫ সালের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো শেষ করবে। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রায় সমুদ্রজলের মাত্রা বাড়ার যে প্রবণতা তা কোনোক্রমেই ঠেকানো যাবেনা বিশ্বের তথাকথিত উন্নত ও শিল্পোন্নত দেশগুলো তাদের অপকর্মের জন্য বাংলাদেশের মতো দুর্বল দেশগুলোর জনগণকে সাহায্যের নামে ধোঁকা দিয়ে আটক রাখতে চায়।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কিছু আলামত আমরা ইতিমধ্যে ঘূর্ণিঝড় আইলায় দেখতে পেয়েছি। এখনও খুলনা, সাতক্ষীরার হাজার হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, জায়গাজমি সাগরের লোনা পানির তলায় হারিয়ে বাঁধে বা রাস্তায় অনাহারে দিনানিপাত করছে। তাদের অনেকেই জলবায়ু উদ্বাস্তু হয়ে শহরাঞ্চলে ভিক্ষা করছে। এখন শিল্পোন্নত দেশগুলো সাহায্যের নামে তাদের উপকূল এলাকায় আটকে রেখে উদ্বাস্তু বস্তি তৈরি করতে চায়। এ ধরণের সমাধান আসলে কোন কাজেই আসবে না।

উল্লেখ্য যে, এ দলিল বিশ্ব তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে ধরে রাখার বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব স্বীকার করলেও এ ক্ষেত্রে স্পষ্ট অঙ্গীকার না করে কেবল সাম্য ও টেকসই উন্নয়নের প্রেক্ষিতে দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করার তাগিদ দিয়েছে (অনুচ্ছেদ-১)। এ দলিল কবে থেকে নিঃসরণের চূড়ান্ত মাত্রা ক্রমান্বয়ে নামিয়ে আনতে হবে তাও উল্লেখ করেনি ( অনুচ্ছেদ-৩)। যদিও উন্নত বিশের দেশগুলোকে তাদের প্রস্তাবিত নিঃসরণ হ্রাসের মাত্রা ৩১ জানুয়ারি,২০১০ নাগাদ জাতিসংঘ সচিবালয়ে জানাতে আহ্বান করা হয়েছে। তবে সে হ্রাসের নূ্যনতম মাত্রা কী হবে তার কোনো উল্লেখ করা হয়নি। ইতিমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া ২০১০ সাল নাগাদ নিঃসরণ হ্রাসের যে মাত্রা প্রস্তাব করেছে, আইপিসিসির প্রস্তাবনার তুলনায় তা মোটেও পর্যাপ্ত নয়। ১৯৯৭ সালের কিয়োটা প্রটোকলের অধীনে নিঃসরণ হ্রাসের মাত্রা নির্ধারণ করেও তা পালনে ব্যর্থ হয়েছে উন্নত দেশগুলো। আইপিসিসির পুনঃতাগিদ সত্বেও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও তা পালনে অঙ্গীকারের ব্যর্থতা জলবায়ুর পরিবর্তনের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। ৪২টি ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্র ছাড়াও অস্তিত্ব হারাবে বাংলাদেশ-এর এক পঞ্চমাংশ উপকূলীয় ভূখণ্ড যেখানে বসবাস অন্তত কোটি বাংলাদেশির। বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরূপ প্রভাব নিয়ে দরিদ্র দেশগুলোর দাবি-দাওয়ার প্রতি জলবায়ু পরিবর্তনে দায়ী ধনী দেশগুলোর উদাসীনতা ও ভ্রূক্ষেপহীন আচরণই এর মূল কারণ।

কোপেনহেগেনের বিতর্কিত সমঝোতা দলিলে বাংলাদেশ সম্মতি প্রদান করে যে 'রাজনৈতিক ইচ্ছা'র পক্ষে বাংলাদেশ অবস্থান নিয়েছে তা বিপর্যয় রোধের ইচ্ছা নয়। 'অভিযোজন তহবিল' পুনর্বাসনে কিছুটা সহায়তা করবে মাত্র, কিন্তু উন্নত বিশ্ব নিঃসরণ প্রয়োজনীয় মাত্রায় কমালে হারিয়ে যাবে উপকূলীয় জেলা-পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা ও খুলনা। বিপন্ন হবে সুন্দরবন ও কক্সবাজার। বদলে যাবে দেশের ও বিশ্বের মানচিত্র। প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে কিশ্ব রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও জাতিসংঘ। আর তা হবে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও সভ্যতার চরম অবমাননা।

ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে গত ১২ দিনের জলবায়ু সম্মেলন শেষে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে তা সব মহলকে খুশি করতে না পারলেও জাতিসংঘের জলবায়ু বিজ্ঞানীরা বিশ্ব সম্প্রদায়কে দ্রুত এই চুক্তি নিয়ে কাজ করতে আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব থেকে ধরণীকে বাঁচানোর সংগ্রামের 'শুরু' হচ্ছে কোপেনহেগেন সম্মেলন। সব মহল মানতে বাধ্য হয় এমন একটি শক্তিশালী চুক্তি করার প্রয়োজন বলে জাতিসংঘ বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন।

এদিকে, যে জলবায়ু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে তাতে সম্মতি দিয়েছে জার্মানী ও ইন্দোনেশিয়া। উভয় দেশ বলেছে, কিছু বিতর্ক থাকলেও এই চুক্তি একটি ভাল 'শুরু' হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃপ্রশাসনিক প্যানেলের চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র পাচুরি বলেছেন, 'কোপেনহেগেন জলাবায়ু চুক্তির কথাগুলোই চূড়ান্ত বাণী নয়। সামনে আরো কিছু অর্জন করার আছে। কোপেনহেগেন চুক্তি বাধ্যতামূলক কোনো দলিল নয়। তাই কেউই এটি মানতে বাধ্য নয়। মোটকথা কেউ যদি স্বেচ্ছায় মানেন তো ভাল, না মানলে কিছু করার নেই।' কিন্তু এমন একটি চুক্তি দিয়ে পৃথিবীকে বাঁচানো যাবে না বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন। কোপেনহেগেন চুক্তিকে একটি ভিত্তি ধরে সামনে আগানোর পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের গতিবিধি যেদিকে অগ্রসর হচ্ছে তাতে স্বেচ্ছা সেবা দিয়ে কাজ হবে না। বাধ্যতামূলক চুক্তি লাগবে। ২০১০ সালের ডিসেম্বরের আগ পর্যন্ত আমাদের অনেক কাজ করার আছে। আগামী বছর ডিসেম্বরে মেক্সিকোতে পরবর্তী জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, কোপেনহেগেন চুক্তির মূল দিক ছিল তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে সীমাবদ্ধ রাখা এবং উন্নয়নশীল দেশসমূহের জন্য স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন তহবিল গঠন করা।

কাপেনহেগেন অঙ্গীকারনামার খসড়া প্রণয়নকারী ২৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশও ছিল এবং বাংলাদেশের কিছু প্রস্তাব এতে ঠাই পেয়েছে। ভেনিজুয়েলা, বলিভিয়া, কিউবা এবং নিকারাগুয়াসহ কয়েকটি দেশ এই চুক্তির নিন্দা জানিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে।

কোপেনহেগেন অঙ্গীকারনামায় বিশ্ববাসীর প্রত্যাশার পূর্ণ প্রতিফলন না ঘটলেও, যেটুকু অর্জন হল তা বাস্তবায়িত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আইনগত বাধ্যবাধ্যকতায় এ চুক্তি কার্যকর করতে না পারলে তা একটি ব্যর্থ দলিল হিসাবে চিহ্নিত হবে। কাজেই চুক্তি বাস্তবায়ন ছাড়াও কোপেনহেগেন অঙ্গীকারনামাকে ভিত্তি করে আগামী দিনগুলিতে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলি যাতে এ সংক্রান্ত গঠিত বিশ্ব তহবিল হতে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায় করতে সক্ষম হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হয়।